
নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো রাজশাহী সফরে এসে মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে সামরিক বিমানে শাহমখদুম বিমানবন্দরে অবতরণপ্রধানমন্ত্রী করেন তিনি।
পরে বেলা ৩টা ২৮ মিনিটে নগরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন সড়ক ও জনসভাস্থলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। দুপুরের পর জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কয়েক দিন ধরে নগরের সড়ক সংস্কার, পিচ ঢালাই, পরিচ্ছন্নতা, দেয়ালে চিত্রাঙ্কন এবং জনসভাস্থলে বিশাল মঞ্চ নির্মাণসহ নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
রাজশাহীর এই জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। একটি দল আছে যারা দেশের মধ্যে ভ্রান্তি ছড়ায়, যারা নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যে কথা বলে বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল এই দুই পক্ষ এক হয়েছে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান – ‘‘রাজশাহীতে যে পদ্মা নদী আছে, আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের এই পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। কিভাবে এই পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই জন্যেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে।”
জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন হবার। আমি আপনাদেরকে আহ্বান জানাই, আজ থেকেই আমাদেরকে সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বাংলাদেশে আর কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। যাতে করে বাংলাদেশের যে অর্থনীতি, মানুষের যে অর্থনৈতিক অবস্থা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের যে পরিবর্তন, সেটি পরিবর্তন করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে, এটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।’’
রাজশাহীর এই সফরে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি আখচাষিদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বিতরণের করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তাঁর রাজশাহী সফরের অন্যতম প্রত্যাশা—কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন দাবিগুলো কতটা গুরুত্ব পায়, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা, শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরা হয়েছে । পাশাপাশি রাজশাহীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণার দাবিও জানানো হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী সফর শেষে সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর আগে সকালে তিনি রংপুরে রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, রাজশাহীতে গণকপাড়ার রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করেছেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে এসেছিলেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এবারের সফরকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর উন্নয়ন, কৃষি খাতের সম্ভাবনা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর অগ্রগতি নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।