আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২২ এপ্রিল, ২০২৬:: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও যুদ্ধের দামামা। বুধবার (২২ এপ্রিল) অন্তত দুটি জাহাজে সাহসিকতাপূর্ণ হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। হামলার নেপথ্যে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হামলার বিবরণ: যেভাবে শুরু হলো উত্তেজনা
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO)-এর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার দুটি পৃথক অবস্থানে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।
-
প্রথম হামলা: ওমানের উপকূল থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে আইআরজিসির ‘গান বোট’ থেকে অতর্কিত গুলি চালানো হয়। এতে জাহাজটির কমান্ড ডেক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জাহাজের ক্রুরা অক্ষত আছেন।
-
দ্বিতীয় হামলা: ইরানের জলসীমার মাত্র ৮ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে একটি কার্গো জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। বর্তমানে জাহাজটি সমুদ্রের ওই অঞ্চলেই আটকা পড়ে আছে।
ইরানের দাবি: তিনটি জাহাজে হামলা ও জব্দ
এদিকে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা কেবল দুটি নয় বরং তিনটি জাহাজে অভিযান চালিয়েছে। আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:
১. ইউফোরিয়া (Euphoria): এই জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করে বর্তমানে ইরানি উপকূলে আটকে রাখা হয়েছে। ২. এমএসসি ফ্রান্সেকা (MSC Francesca): ইরানি মিডিয়ার দাবি অনুযায়ী, এই জাহাজটিকে জব্দ করা হয়েছে। ৩. ইপামিনোন্দাস (Epaminondas): এটিকেও কব্জা করে ইরানি উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
“হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তার স্বার্থে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান, যদিও আন্তর্জাতিক মহল একে উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করেছে।”
বর্তমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা শঙ্কা
UKMTO নিশ্চিত করেছে যে, দ্বিতীয় জাহাজে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও নাবিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট খনিজ তেলের এক-তৃতীয়াংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সারসংক্ষেপ:
-
তারিখ: ২২ এপ্রিল, ২০২৬।
-
স্থান: হরমুজ প্রণালি (ওমান ও ইরান উপকূলের নিকটবর্তী এলাকা)।
-
হামলাকারী: ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)।
-
ক্ষয়ক্ষতি: ইউফোরিয়া ও এমএসসি ফ্রান্সেকা সহ একাধিক জাহাজ জব্দ ও ক্ষতিগ্রস্ত।
এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী। যেকোনো সময় বড় ধরনের পাল্টা পদক্ষেপের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Reporter Name 
Hi, this is a comment.
To get started with moderating, editing, and deleting comments, please visit the Comments screen in the dashboard.
Commenter avatars come from Gravatar.