
নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ৩৪তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ে নতুন গতি সঞ্চার করেছেন। ২০২৬ সালের ৭ মে দায়িত্বভার গ্রহণের পর তিনি ২ মাসের মধ্যে নগরীর আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন। বিধায় পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নেতৃত্বে এই উদ্যোগগুলো ইতোমধ্যে মহানগরবাসীর মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেছিলেন, মাদক, জুয়াসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে পুলিশি কার্যক্রমকে সেবামুখী, জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করতে সব ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইজিপির নির্দেশনা উল্লেখ করে তিনি জানান, পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় বা যে কোনো ইউনিটে সেবা নিতে গিয়ে কেউ যেন আর্থিক বা অন্য কোনো হয়রানির শিকার না হন এ বিষয়ে কঠোর মনিটরিং থাকবে। প্রতিটি থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
ইতিমধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে অপরাধ প্রতিরোধে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজশাহী মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনবহুল স্থানে মোট ৩৭০টি আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। এর মধ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ১৫৫টি ক্যামেরা হস্তান্তর করেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে চালু হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। নগরীর প্রবেশপথে নিয়মিত চেকপোস্ট, বিশেষ মাদক বিরোধী টিম এবং সমন্বিত অভিযানের ফলে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন মাদক উদ্ধার ও ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অনলাইন জুয়া, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও নিয়মিত সফল অভিযান চালাচ্ছে (Crisis Response Team -CRT) ক্রাইসিস রেসপন্স টিম।

এদিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার সিটিটিসি ও মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমান (পিপিএম) বলেন – শিক্ষা নগরী রাজশাহী থেকে মাদক, সন্ত্রাস এবং জুয়া নির্মূল করতে পুলিশ কমিশনার স্যারের দিক নির্দেশনায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে অপরাধ করে কারো পার পাওয়ার সুযোগ নেই। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরএমপির বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও এসেছে নতুন গতি। পুলিশ কমিশনারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে যৌথ চেকপোস্ট পরিচালনা করে রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহন আটক, হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধ এবং অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজি সেবায় হয়রানিমুক্ত ও নির্ধারিত ভাড়া নিশ্চিত করতে পরিবহন সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
হোটেল-মোটেল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অতিথির পরিচয় যাচাই এবং অনৈতিক কার্যক্রম প্রতিরোধের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার । রাতের ট্রেন-বাস যাত্রীদের নিরাপত্তায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
জনসেবা ও সমন্বয়ের দিকেও নজর রেখেছেন তিনি। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক সেবা বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যকরী জনবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন পুলিশ কমিশনার ।
আরএমপির অফিসিয়াল নিউজ পোর্টাল (news.rmp.gov.bd) ও ফেসবুক পেজে নিয়মিত প্রকাশিত মাদকবিরোধী অভিযান, বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ও অন্যান্য কার্যক্রম দেখে স্পষ্ট যে, কমিশনারের নেতৃত্বে অপরাধ দমন ও সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নগরবাসীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, সবাইকে নিয়েই রাজশাহীকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বসবাসযোগ্য মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের এই সক্রিয় ও সেবামুখী নেতৃত্ব রাজশাহীবাসীর আশা জাগিয়েছে। তার নেতৃত্বে আরএমপি যেন আরও জনমুখী ও কার্যকর হয়ে ওঠে এটাই নগরবাসীসসহ সুশীল সমাজের প্রত্যাশা।