
নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের সফল অভিযানকে ব্যার্থ করতে মাঠে সক্রিয় মাদক মাফিয়ারা। কেননা বাঘা, চারঘাট, গোদাগাড়ী তানোর এলাকায় রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের সাঁড়াশী অভিযানে মাত্র ১ মাসেই প্রায় হাজারের উপরে ভারতীয় আমদানি নিষিদ্ধ এসকাফ সিরাপ, গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
বিধায় সেই এলাকাগুলো থেকেই এবার রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে গুজব ছড়ানোর অপচেস্টা চালাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে মাদক মাফিয়াদের একটি চক্র এ সকল গুজব ও অপপ্রচারের পিছনে জড়িত রয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতায়, রাজশাহীর চারঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে ২০০ বোতল কোডিনযুক্ত ESkuf সিরাপ ও একটি মোটরসাইকেলসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে চারঘাট থানাধীন খোর্দ্দগোবিন্দপুর গ্রামের একটি আধাপাকা টিনসেড বাড়ির উঠানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন – চারঘাটের খোর্দ্দগোবিন্দপুর গ্রামের মৃত লাবলুর ছেলে মো. পলাশ (২৩) এবং ঝিকরা উত্তরপাড়া গ্রামের জমির মিয়ার ছেলে মো. জনি (২৩)। ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই (নিরস্ত্র) মো. আশাফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভোরে পল্লী বিদ্যুৎ মোড় ও আশপাশের এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিলেন।
পুলিশের সূত্র জানায় , খোর্দ্দগোবিন্দপুর গ্রামের ওই বাড়ির উঠানে কয়েকজন মাদককারবারী বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধ মাদকদ্রব্য নিয়ে অবস্থান করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পলাশ ও জনিকে আটক করা হয়। তাদের হেফাজতে থাকা খাকি রঙের কাগজের কার্টনের ভেতর থেকে কোডিনযুক্ত ২০০ বোতল ESkuf সিরাপ এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের TVS Metro Plus মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত পলাশ ও জনির গডফাদার ঝিকরা গ্রামের মো. সম্রাট ইসলাম (৩০) ও মো. তুষার আহাম্মেদ (২৯)। এদের বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার ইসাহাক আলম জানান – সম্রাট ও তুষার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। যারা যুব সমাজ জন্য ধ্বংসের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে তারা।
উক্ত ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী চারঘাট মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরো উল্লেখ্য যে, এরই কয়েকদিন পূর্বে ১০ আগস্ট রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোদাগাড়ী থানাধীন জৈনবটতলা এলাকায় এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আশাফুল ইসলামের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ এলাকার দুই মাদক কারবারি মোঃ রুবেল হক (২৬) ও মোঃ কামিরুল (২৫) একটি প্রাইভেটকারে করে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেট কারটি খাদে পড়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তাদের ফেলে যাওয়া প্রাইভেট কারের ভিতর থেকে দুটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা তল্লাশি করে ৪০০ বোতল ESkuf জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এ একটি মামলা রুজু করা হয়।
এদিকে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের সফল অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে সুশীল সমাজ।
এ বিষয়ে সুজন ( সুশাসনের জন্য নাগরিক) এর সদস্য ও বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন – রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশ যখন যখন মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে ঠিক সে সময় গুলোতে মাদক মাফিয়া চক্রের কিছু সদস্য ফেসবুকসহ সব বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাতে থাকে। মূলত পুলিশের ভাবমূর্তি ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এই প্রচার অভিযান। তবে মাদক নির্মূলে বর্তমানে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের বিভিন্ন পদক্ষেপ মাইল ফলক হয়ে থাকবে।