
নিজস্ব প্রতিবেদক।। উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন:: রাজশাহীনগরীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা সাহেববাজারের স্বর্ণপট্টিতে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ও দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা। ‘কারুশ্রী জুয়েলার্স’ নামের একটি নামী দোকানে সিঁধ কেটে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১২০০ ভরি রুপা এবং নগদ ২৫ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে একদল সংঘবদ্ধ চোর। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজশাহীর সব জুয়েলারি দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
পাশের দোকানের দেয়াল কেটে অভিনব চুরি
জানা গেছে, সাহেববাজার এলাকার স্বর্ণা হোটেলের নিচতলায় ‘আফিয়া জুয়েলার্স’ এবং ‘কারুশ্রী জুয়েলার্স’ নামের দুটি দোকান পাশাপাশি অবস্থিত। চোর চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রথমে আফিয়া জুয়েলার্সের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দুটি দোকানের মাঝখানের দেয়াল কেটে তারা কারুশ্রী জুয়েলার্সে ঢোকে। সেখানে থাকা সিন্দুক ও শোকেস ভেঙে স্বর্ণালংকার, রুপা এবং ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ অর্থ লুটে নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। তবে অদ্ভুত বিষয় হলো, যে আফিয়া জুয়েলার্সের দেয়াল কাটা হয়েছে, সেই দোকানে কোনো মালামাল ছিল না বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে এই বিশাল চুরির ঘটনাটি ঘটেছে।
বাজুস রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম অপু বলেন: “এটি কোনো সাধারণ চুরি নয়, অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুট হয়েছে। দ্রুত মালামাল উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা না হলে রাজশাহীর সব জুয়েলার্স দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।”
ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তা শঙ্কা
ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকায় এমন ফিল্মি স্টাইলের চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও নৈশপ্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এত বড় লুটপাট চালানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সবাই। দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
তদন্তে মাঠে নেমেছে পুলিশ ও সিআইডি
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ বিভিন্ন ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডি।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। তিনি বলেন, “ইতোমধ্যেই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আশা করছি খুব দ্রুতই এই চুরির রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”