রাজশাহী পুঠিয়ার এমপি মনসুর অধ্যক্ষকে যেভাবে তুলে আনালেন

উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের সংবাদটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: একদিন আগেই রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের এমপি ডা. মনসুর রহমান মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে ঘাড় পাকিয়ে তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ফোনে। কথামতো তার ক্যাডাররা রাজশাহী পুঠিয়ার বিড়ালদহ সৈয়দ করম আলী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানকে তুলে নিয়ে রাজশাহী নগরীর কাজিহাটায় তার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে আটকে রেখে তাকে মারধর করা হয়। বলতে গেলে এমপির যেই কথা সেই কাজ।

 

 

 

 

অপহরণের প্রতিবাদে এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করলে ৩ ঘণ্টা পর এমপির বাসা থেকে পুলিশ মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে। গেল সোমবার দুপুরে রাজশাহী পুঠিয়ার বিড়ালদহ এলাকায় অধ্যক্ষ অপহরণের ঘটনা ঘটে। অধ্যক্ষকে তুলে আনার হুমকি দেওয়া সংক্রান্ত এমপি ডা. মনসুরের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অধ্যক্ষ অপহরণের ঘটনাটি রাজশাহীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ওই এলাকায়।

 

 

 

অত্র এলাকাবাসী ও অধ্যক্ষ অভিযোগে করে উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের প্রতিবেদককে জানান, সম্প্রতি সৈয়দ করম আলী ফাজিল মাদ্রাসার নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এতে এমপি ডা. মনসুরের সুপারিশকৃত রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলীকে সভাপতি না করে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারার অনুসারী আব্দুল সালেককে সভাপতি করা হয়। এ নিয়ে এমপি ডা. মনসুর রহমান ও সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারার সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। ফোনে মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন এমপি মনসুর।

 

 

সার্বিক বিষয়ে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনকে বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হলে নতুন কমিটি গঠন করি। এতে এমপি ডা. মনসুর রহমান আমার ক্ষুব্ধ হন। শনিবার রাত ৯টায় তিনি ফোন করে আমাকে বলেন, এক্ষুনি আমার বাসায় আসেন। আমি তাকে জানাই, আমি তো পাবনায় গ্রামের বাড়িতে আছি। ফিরব রোববার ভোরে। তখন এমপি সাহেব বলেন, তাহলে কাল রাতে আসেন। আসতে পারবেন তো? না আসতে পারলে ঘাড় পাকিয়ে তুলে আনব কিন্তু। মনে থাকে যেন। এরপর সোমবার সকাল ৯টায় এমপির ঘনিষ্ঠ শফিকুল ইসলাম ডাবলু, মুহিন, তুষারসহ ৫ মাদ্রাসায় আসেন। কথা আছে বলে বাইরে নিয়ে জোর করে আমাকে একটি মাইক্রোবাসে তোলেন। 

 

mp_monsur_puthia_-rajshahi_news
রাজশাহী পুঠিয়ার বিড়ালদহ সৈয়দ করম আলী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক কিল-ঘুসি, লাথি মারার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকাবাসী রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

 

এ সময় তারা আমাকে বেধড়ক কিল-ঘুসি, লাথি মারতে থাকেন। এরপর আমাকে এমপির রাজশাহী শহরের কাজিহাটার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর এমপি সাহেব মাদ্রাসার কমিটি নিয়ে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে এমপি সাহেব আমাকে বলেন, ‘আপনাকে তুলে আনাটা ঠিক হয়নি।’ পরে মুহিন নামের এক ক্যাডারকে দিয়ে আমার কাছে লোক দেখানো ক্ষমা চাওয়ানো হয়।

 

 

 

এদিকে অধ্যক্ষকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকাবাসী রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অধ্যক্ষকে দ্রুত উদ্ধারের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন। তিন ঘণ্টা পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুঠিয়া থানা পুলিশ মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে গাড়িতে করে নিয়ে মাদ্রাসায় পৌঁছে দেন। রাজশাহী  পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে এমপি ডা. মনসুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘অধ্যক্ষকে বাসায় ডেকেছিলাম। তুলে আনা হয়নি। তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলীকে আমি বিড়ালদহ মাদ্রাসার সভাপতি করেছিলাম । কিন্তু অধ্যক্ষ মেয়াদ শেষে তাকে আবার সভাপতি না করে সাবেক এমপি দারার একজন লোককে সভাপতি করেন। এজন্য কথা বলতে তাকে ফোন দিয়েছিলাম। আমার লোককে সভাপতি না করায় এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যক্ষকে আমার বাসায় এনেছিলেন। পরে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পুলিশকে বাসায় ডেকে তাদের সঙ্গে অধ্যক্ষকে আবার মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি।’ অধ্যক্ষকে ঘাড় পাকিয়ে তুলে আনার হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের হুমকি আমি দিইনি। এসব দারার কারসাজি।’

 

 

 

ঘটনা প্রসঙ্গে মাদ্রাসাটির নতুন সভাপতি আব্দুস সালেক বলেন, ‘আমি আমার যোগ্যতায় সভাপতি হয়েছি। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সামনে দিয়ে প্রকাশ্যে অধ্যক্ষকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনা। এ ঘটনায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি। আমরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছি। এরপর অধ্যক্ষকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুর রহমান বলেন, ‘সংসদ সদস্য ডা. মনসুর সাহেব মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে বাড়িতে ডেকেছিলেন। তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 


উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের সংবাদটি শেয়ার করুন

Discover more from UttorbongoProtidin.Com 24/7 Bengali and English National Newsportal from Bangladesh.

Subscribe to get the latest posts to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *