সীতাকুণ্ডের ঘটনায় বিএম ডিপোর টাকা পাচ্ছেননা অনেকেই

উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের সংবাদটি শেয়ার করুন

সীতাকুণ্ড থানা প্রতিনিধি, উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: সীতাকুণ্ডে কনটেইনার বিস্ফোরণের ঘটনায় মহিবুল্লাহ ও শুধু নজরুল নয়, তাদের মতো আরো অনেকে কতৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সেই মোটা অংকের সাহায্য এখনো পাননি। তারা আদৌ টাকা পাবেন কি না এ নিয়ে চিন্তায় আছেন। তেমনি তাদের চিন্তা দগ্ধ প্রিয়জনকে নিয়ে। বিষয়টি নিয়ে স্মার্ট গ্রুপ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছেন, তাদের কোম্পানি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা তারা রক্ষা করবেন। যারা এখনো টাকা পায়নি, তারা যেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। 

 

 

তাদের মতোই এখনো সহযোগিতা পায়নি দগ্ধ ফায়ার কর্মী রবিন, কাভার্ড ভ্যান চালক সজীব, মাসুম মিয়া, ফারুকসহ আরো অনেকে। যদিও ঘটনার পর চট্টগ্রাম ও ঢাকায় চিকিৎসারত ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষের লোকজন। তারা এই তালিকায় অনেক পরিবারকে তিন দফায় ১৫ হাজার করে টাকাও দিয়েছেন কিন্তু অন্যদের মোটা অঙ্কের টাকা তুলে দিলেও এসব পরিবার এখনো পায়নি বলে উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনকে তারা জানিয়েছেন।

 

যশোরের মহিবুল্লাহর স্ত্রী আরজু বলেন, তিন দফায় মাত্র ১৫ হাজার টাকা দিয়েছে। আর কোনো টাকা পয়সা দেয়নি। সজীব কাভার্ডভ্যানের চালক ছিলেন। তার স্ত্রী মিথিলা আকতার বলেন, স্বামী দগ্ধ হওয়ার পর ঢাকায় আনা হলে দুই দফায় অপারেশন হয়েছে। তিনি নিজ খরচে হাসপাতালে আছেন কিন্তু এখনো বিএম ডিপো থেকে টাকাটা পাননি।

 

 

চিকিৎসাধীন আব্দুল আমিন শেখের মা পারুল আকতার উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনকে জানান, তার ছেলে সেদিন ডেইলি কাজে ছিল। ছেলে দগ্ধ হওয়ার পর মাত্র ১৫ হাজার সহায়তা দিয়েছে বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষ। আর কোনো টাকা পাননি তিনি। কথা বলার এক ফাঁকে তিনি বলছিলেন, ‘বাবা ওরা কি আমাগো আর টেকা দিবে!

 

 

বিষয়টির ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হয় স্মার্ট গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মেজর জেনারেল (অব.) শামসুল হায়দার চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের সাহায্য অব্যাহত আছে। যারা এখনো টাকা পয়সা পায়নি তারা যেন নিজ উদ্যোগে যোগাযোগ করে। এছাড়াও আমাদের টিম কাজ করছে। যারা এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ যোগাযোগ করলে আমরা তাদের হাতে টাকা পৌঁছে দেব। এছাড়াও এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কোনো স্বজন চাকরির জন্য উপযোগী হলে তাদেরকে আমরা প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবো। তিনি আরো বলেন, আমরা টাকা দেওয়া এখনো বন্ধ করিনি। যাদের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে তাদেরকে টাকা দেওয়া হয়েছে। যারা এখনো টাকা পায়নি তারা এসে তাদের নাম বললে আমরা বেঁচে থাকা তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখব, কারণ ঘটনার দিন কোন কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কারা এসেছিল সেই তালিকায় তাদের ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

 

এসময় তিনি জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় তারা ৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করেছেন।  ক্ষতিগ্রস্ত ৬৯ জনের মধ্যে টাকা বিতরণ করা হয়েছে।  এর মধ্যে ২৬ জন নিহত রয়েছেন। এ তালিকায় ১৩ জন ফায়ার কর্মী ৯ জন কর্মচারী এবং অন্যান্য ৪ জন। ফায়ার সার্ভিসের নিহতদের ১৫ লাখ, বিএম ডিপোতে কর্মরত ও সাধারণ নিহতদের ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো তিন ব্যক্তির লাশ ডিএনএ করানো সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। এ কারণে ওই তিন ব্যক্তির টাকা কাকে দেওয়া হবে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তারা।  এ ঘটনায় যাদের অঙ্গহানি হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী হলে ১০ লাখ, বিএম ডিপো ও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ৬ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

 

 

প্রসঙ্গত, এ ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল যারা দগ্ধ হয়েছেন ও চিকিৎসাধীন আছেন তাদের প্রত্যেককে ৪ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে বিএম ডিপো তাদের আহত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঠিকই টাকা বুঝিয়ে দিয়েছেন। অনেক সাধারণ দগ্ধ মানুষ সেই টাকা পাননি।


উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের সংবাদটি শেয়ার করুন

Discover more from UttorbongoProtidin.Com 24/7 Bengali and English National Newsportal from Bangladesh.

Subscribe to get the latest posts to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *