রাজশাহীতে আমের বাজারে প্রতিদিন কেনাবেচা ৮ কোটি টাকা

উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের সংবাদটি শেয়ার করুন

থানা প্রতিনিধি, উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: রাজশাহীর বানেশ্বর হাটে আম চাষি ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা কয়েক হাজার। প্রতিদিন বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাগমারা, পবা নাটোরের বাগাতিপাড়া, লালপুর থেকে আম চাষি, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা এখানে আম কেনাবেচা করতে আসছেন। এই হাট থেকেই প্রতিদিন বিক্রি আমের বিকিকিনি হচ্ছে প্রায় ৬কোটি  টাকার। এছাড়াও রাজশাহীর নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারের আড়ত ও দোকানে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ কোটির টাকার আম। সে হিসাবে রাজশাহীতে প্রতিদিন প্রায় ৮ কোটি কোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে।

 

 

আমের বাজার নিয়ে বিক্রেতা-ব্যবসায়ীরা খুশি হলেও ক্রেতারা জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর আমের বাজার বেশ চড়া। গত দুই বছরে গোপালভোগ ছিল মণপ্রতি ১২শ থেকে ১৬শ টাকার মধ্যে। ক্ষীরসাপাত ও ল্যাংড়ার দামও ছিল কাছাকাছি। কিন্তু এ বছর শুরু থেকেই এর প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে আম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই বছরে আমের ব্যবসা খুব খারাপ গেছে। এবার আমের ফলনও হয়েছে কম। তাই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সে কারণেই আমের দাম বেশি।

 

 

বানেশ্বর হাটসহ রাজশাহী শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গুটি জাতীয় আমের দাম অন্য আমের চেয়ে অনেক কম। এ আম বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ১ হাজার থেকে ১২শ টাকায়। গোপালভোগ প্রায় শেষের পথে। তাই তার দাম এখন অনেক বেশি। ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা মণ দরে। ক্ষীরসাপাত ও ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। লক্ষণভোগ প্রতিমণ ৭০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দুধস্বর, কালুয়াসহ কয়েক প্রজাতি আম ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিখ্যাত ফজলি ও আম্রপালি আম আসবে ১৫ জুন থেকে।

 

 

রাজশাহীর বানেশ্বর হাটএ বছর এগুলোর দামও চড়া থাকবে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বানেশ্বর হাটে আমের বেচাকেনা চলছে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে বানেশ্বর এখন গত কয়েক বছরের চেয়ে অনেক বেশি সরগরম। রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর থেকেও ক্রেতারা আসছেন আম কিনতে। ক্রেতা-বিক্রেতা-আড়তদাররা বলছেন, বানেশ্বরসহ প্রতিদিন রাজশাহীতে প্রায় ৬ কোটি টাকার আমের ব্যবসা হচ্ছে। একই কথা বলছেন বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তারাও। তারা বলছেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ মাসে লেনদেন অনেক বেড়েছে। বানেশ্বর বাজারের বিভিন্ন ব্যাংক, এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংও আগের তুলনায় লেনদেন কয়েকগুণ বেশি হচ্ছে।

 

 

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোজদার হোসেন উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনকে  বলেন, ‘এবার এখন পর্যন্ত ঝড়, শিলাবৃষ্টি কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি। বাকি সময়টা দুর্যোগ না এলে যে আম আছে, তা দিয়েই চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। কেননা, গাছে আম কম বলে সেগুলো বেশি বড় হয়েছে।’ এবার গাছে আম কম, তাই দাম বেশি। এতে চাষিরা উপকৃত হচ্ছেন। গত দুই বছর করোনা ও লকডাউনের কারণে আমের ব্যবসা হয়নি। এবার দাম একটু বেশি হওয়ায় আম চাষিরা গত দুই বছরের ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারবেন।’


উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের সংবাদটি শেয়ার করুন

Discover more from UttorbongoProtidin.Com 24/7 Bengali and English National Newsportal from Bangladesh.

Subscribe to get the latest posts to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *