
ষ্টাফ রিপোর্টার। উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। অধ্যাদেশে বনভূমির জরিপ ও রেকর্ড, গাছ কর্তনের অনুমতি, শাস্তির মাত্রা এবং বনভূমি শর্তসাপেক্ষে বিনিময়ের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।এতে বলা হয়েছে, গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষের তালিকাভুক্ত অথবা বন অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদাপন্ন ঘোষিত কোনো গাছ কাটা যাবে না। এ ধরনের গাছ কাটলে আদালত সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের নির্দেশ দিতে পারবেন।
বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ‘বন আইন, ১৯২৭’ এর ৪ ও ৬ ধারার অধীনে গেজেটভুক্ত বন, অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন, সামাজিক বন, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিসরের গাছ কর্তন করা যাবে।
ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকা অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য তালিকাভুক্ত গাছ কাটার জন্য আবেদন করতে হবে নির্ধারিত ফরমে। আবেদনে গাছের প্রজাতি, সংখ্যা, আনুমানিক উচ্চতা, বুক সমান উচ্চতায় বেড় এবং কর্তনের কারণ উল্লেখ করতে হবে। আবেদন যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের পর ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির- রোগাক্রান্ত বা মৃত গাছ, ঝড়ে পড়া বা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ, সড়ক যোগাযোগে বাধাসৃষ্টিকারী গাছ এবং জীবন বা সম্পদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটতে আগাম অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। এছাড়া কর্তন নিষিদ্ধ বা অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য তালিকার বাইরে থাকা বাণিজ্যিক ও গ্রামীণ এলাকায় ব্যবহৃত সাধারণ গাছ কাটতেও অনুমতি লাগবে না।
অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাত্রার শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে- কর্তন নিষিদ্ধ গাছ কাটলে: সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন, অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য গাছের বিধান লঙ্ঘনে- সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং পেরেক বা ধাতব বস্তু দিয়ে গাছের ক্ষতি করলে- সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা।
সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান অপরাধ করলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, কর্মকর্তা বা প্রতিনিধিকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা জরিমানার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বৃক্ষাচ্ছাদন থাকুক বা না থাকুক গেজেটভুক্ত সব বনভূমি বন বিভাগের নামে রেকর্ডভুক্ত করতে হবে। রক্ষিত ও অর্জিত বনভূমি জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড হলেও এসব বনভূমির ব্যবস্থাপনা থাকবে বন বিভাগের হাতে।
অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর বন অধিদপ্তরকে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বনভূমির জরিপ, সীমানা নির্ধারণ ও রেকর্ড হালনাগাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন জমির ভেতরে বিচ্ছিন্নভাবে এক একরের কম বনভূমি থাকলে জনস্বার্থ বিবেচনায় সরকারপ্রধানের অনুমোদনে বিনিময়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দ্বিগুণ পরিমাণ নিষ্কণ্টক বনসংলগ্ন জমি বন বিভাগকে হস্তান্তর করতে হবে এবং তা সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কর্তন নিষিদ্ধ ও অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য গাছের তালিকা গেজেটে প্রকাশ ও প্রয়োজনে হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিধান প্রচারে বন অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
