
ষ্টাফ রিপোর্টার। উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: রাজশাহীতে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এক অভিনব প্রতারণা। শুধুমাত্র এইচএসসি পাস এক যুবক নিজেকে ডা. মো. রফিকুল হাসান নামে পরিচয় দিয়ে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে রোগী দেখছিলেন। তিনি সাইনবোর্ডে লিখে রেখেছিলেন এমবিবিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন), এফসিপিএস (নিউরো মেডিসিন) এবং দাবি করতেন ব্রেন, নার্ভ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, স্পাইন ও মৃগী রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তিনি।
অভিযুক্তের আসল নাম নুরুল ইসলাম। বাড়ি রাজশাহী শহরের বহরমপুর এলাকায়। তিনি বিএমডিসির একটি নিবন্ধন নম্বর (অ-৩৪৭৯৭) অবৈধভাবে ব্যবহার করে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। তার চেম্বার ছিল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোডাউন মোড়ে অবস্থিত আত-তাবারা মডেল হাসপাতালে। এছাড়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সেভেন স্টার ক্লিনিকসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও তিনি নিয়মিত রোগী দেখতেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে বাগমারায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এই ভুয়া চিকিৎসকের প্রতারণার পর্দা ফাঁস হয়। সাইনবোর্ডে তাকে এমনকি কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবেও দেখানো হয়েছিল যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
অবশেষে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাফিউল্লাহ নেওয়াজ অভিযোগ দায়ের করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্ত নুরুল ইসলামকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। দণ্ড কার্যকরের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে হাসপাতালটির মালিক মশিউর রহমানকে জেনে-শুনে ভুয়া চিকিৎসক নিয়োগ ও রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫২ ধারায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,“জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভুয়া চিকিৎসক, অননুমোদিত ক্লিনিক ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বাগমারার স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই ব্যক্তির চিকিৎসা নিয়ে এলাকায় সন্দেহ ছিল। অবশেষে প্রশাসনের তৎপরতায় এই প্রতারণার অবসান ঘটল।
