রাজশাহীতে জেল থেকে বের হয়েই আবারও সক্রিয় মাদকের গডফাদার সোহেল

উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের সংবাদটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন ::  বাংলাদেশের  সীমান্তবর্তী জেলা রাজশাহী। পদ্মাপাড়ের এই এলাকা ভারতের মুর্শিদাবাদের লাল গোলার সঙ্গে সংযুক্ত । পুলিশের নথি থেকে জানা যায়, রাজশাহীর বিভিন্ন  চরাঞ্চল দিয়েই ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি ঢোকে হেরোইন ও ফেনসিডিল।  

 

 

 

সেই ধারাবাহিকতায় গেল চলতি বছরের ১০ই জুলাই রাতে  রাজশাহীর মহানগরীর অধীনে দামকুড়া থানা এলাকায় পৃথক পৃথক ২টি ঘটনায়  সশস্ত্র হামলায় ২ ব্যক্তি খুন হয়। নিহতরা হলেন- চরমাজাড়দিয়াড় এলাকার আবু সাঈদ (৩০) এবং হরিপুর বেড়পাড়ার হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব (৩৮)। সাঈদ এবং হাবিবকে হত্যার ঘটনায় দামকুড়া থানায় পৃথক ২টি মামলাও হয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় কার নেতৃত্বে এই খুন, কে এই মাস্টারমাইন্ড ?  উত্তর একটাই রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চলের গডফাদার সোহেল। আর মাদক কেনাবেচা নিয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটান সোহেল।

 

 

এদিকে বিগত গেল বছরগুলোতে  মাদকের আগ্রাসন কমেছে রাজশাহী মহানগরীতে। অবশ্য এসব কিছুরই অবদান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের । আরেক সমীক্ষায় দেখা যায়, মাদক উদ্ধারে রাজশাহী মহানগর ডিবি অনেকটাই তৎপর রয়েছে। যার ফলে গেল মাসে ডিবি বেশ কিছু মাদকের বিরুদ্ধে সফল অভিযান করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী মহানগরীর সীমান্তবর্তী থানা কাশিয়াডাঙ্গা ও দামকুড়া মাদক উদ্ধারে ব্যাপক অগ্রসর ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে মাদক নির্মূলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মতৎপরতা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার।

 

 

 

▶ কে এই গডফাদার সোহেল ? 

রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানাধীন হরিপুর সোনাইকান্দি এলাকায় মাদকের অভারন্য হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই এলাকার মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতো  তিন জন মাদক গডফাদার ১) হাসান ঘাটিয়াল ২) সাহাবুল ঘোষ ৩) সোহেল। গত ২০১৮ সালে ‘চল যায় যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে মাদকের বিরুদ্ধে সারাদেশ ব্যাপি বাংলাদেশ র‍্যাব যে অভিযান পরিচালনা করে ওই অভিযানের প্রথম মাদক ব্যবসায়ীর সাথে বন্ধুকযুদ্ধে যে মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয় তার নাম গডফাদার হাসান ঘাটিয়াল। এর কিছুদিন পরে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আরেক বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয় গডফাদার হাসিবুল ঘোষ। তখন অবস্থা বেগতিক দেখে গডফাদার সোহেল অনির্দিষ্টকালের জন্য গা ঢাকা দিয়ে ওই সময় নিজেকে রক্ষা করে। পরবর্তীতে ওই অভিযান স্থগিত হলে আবারো এলাকায় ফিরে এসে নিজের আধিপত্য বিস্তার করে এবং ওই এলাকায় আর দ্বিতীয় কোন গডফাদার না থাকায় এলাকায় মাদকের সকল সিন্ডিকেট নিজের দখলে নিয়ে মাদকের একক রাজত্ব কায়েম করে মাদক ব্যবসা করে চলেছে।

drugs_delar_godfather_sohel_rajshahi
রাজশাহীতে জেল থেকে বের হয়েই আবারও সক্রিয় মাদকের গডফাদার সোহেল

 

অসংখ্যা মাদক গুম, খুন ও অপহরণ মামলার আসামী সোহেল দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা সালোচনায় ছিল। কিন্তু জ্ঞাত স্থানে থাকায় তাকে কেউ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। গেল ৩ মাস ধরে দেশের শীর্ষ জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদ শিরোনামে ছিলেন এই সোহেল। কিন্তু বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরই গডফাদার সোহেল রাজশাহী মহানগর ডিবির হাতে মাদকসহ গ্রেফতার হন চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর রাতে। এরপর মাস খানেক কারাভোগের পর ৫ই ডিসেম্বর জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও সিন্ডিকেট সাজিয়ে ফেলেন সুনিপুণ কৌশলে। 

 

 

নিম্নে গডফাদার সোহেল কেন্দ্রীক যে সকল সংবাদ প্রকাশ হয়ে তা নিম্নে তুলে ধরা হল – 

 

▶ রাজশাহীতে মাদক সম্রাট সোহেলসহ গ্রেপ্তার ৪ : জাতীয় দৈনিক নববানী

Shortlink : https://urlis.net/wzx8wt5e

▶ রাজশাহীতে মাদক কারবারিদের হামলায় নিহত : ২ দৈনিক যুগান্তর

Shortlink : https://rb.gy/71wuub

▶ রাজশাহীতে মাদক সম্রাট সোহেলসহ গ্রেপ্তার ৪ : পদ্মাটাইমস

link : https://padmatimes.com/?p=559732

▶ যে কারনে সফলতার শীর্ষে রাজশাহী মহানগর ডিবি : উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন 

Link: https://uttorbongoprotidin.com/rajshahi-rmp-db-police-action/

 

▶ সোহেলের মাদক সিন্ডিকেট যেভাবে চলছে

ছোট, নড় মাঝারী মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন মাদক ব্যবসায়ী নিয়ে সোহেলের সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। যে সকল  মাদক ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে মাদক কেনেননা তাকেই অসাধু কিছু পুলিশ, ডিবি সদস্যদের দিয়ে নানানভাবে মামলা,হামলা করিয়ে তাকে বাধ্য করানো হয়। এই ছাড়া অত্র এলাকায় গেল ২০ বছরে মাদক কেন্দ্রিক যত খুন, গুম হয়েছে তার সবই করেছে মাদক মাফিয়াদের গডফাদার সোহেল।আর এই সোহেলের সহযোগী ১ জন ২ জন নয় বরং ২৪ ঘন্টা সে একটি সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে চলাফেরা করে।তবে এ বাহিনীর সদস্য কারা তা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে।

 

▶ গনমাধ্যমে কর্মীদের হত্যার হুমকি দেন প্রাকাশ্যেই

রাজশাহী দামকুড়া থানাধীন হরিপুর সোনাইকান্দি এলাকায় কোন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাকে পড়তে হয় সোহেলের হাঁসুয়া বাহিনীর কাছে। গেল ২ মাস আগে দামকুড়া থানার ২ খুনকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় সাংবাদিকদের এমনটিই হুমকি দিয়েছিলেন এই সোহেল। 

 

 

 

▶ গডফাদার সোহেলকে নিয়ে এলাকাবাসীর বক্তব্য 

রাজশাহী হরিপুর এলাকার  স্কুল মাস্টার আব্দুল্লাহ বলেন – সোহেল কাশিয়াডাঙ্গা ও দামকুড়া এলাকার মাদক সম্রাজ্যের একক রাজা। কেননা অত্র অঞ্চলের শীর্ষ গডফাদার হাসান ঘাটিয়াল, সাহাবুল ঘোষ ক্রসফায়ার হওয়ার পর এই মাদক সম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে কমপক্ষে ১০ টি লাশের উপর দাঁড়িয়ে আছে সোহেলের মাদক সম্রাজ্য। তিনি আক্ষেপ করে এও বলেন তার সাথে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত যোগাযোগ আছে। আপনারা নিউজ করে তাকে কিছুই করতে পারবেননা।

 

আক্ষেপ করে ৭০ বছর বয়সী আমেনা বেগম বলেন – আমার ছেলেটা মাদক খেতে খেতে মরেই গেলো। তাও সোহেলের কিছু করেনি পুলিশ, ডিবি। আর তোমরা পত্রিকা ছাপিয়ে কি করবা। 

 

▶ কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা আরএমপির 

সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশের  কে এম আরিফুল হক জানান – রাজশাহী শিক্ষা নগরী।  রাজশাহীতে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মুল করাই আমাদের লক্ষ। আমরা মাননীয় পুলিশ কমিশনার স্যারের দিক নির্দেশনায় অপরাধ ও অপরাধী নির্মূলে যে পদক্ষেপ গ্রহন করেছি এতে আমরা সফল হবো বলে শতভাগ আশাবাদী। এক্ষেত্রে মাদকের গডফাদার সোহেল হক কিংবা অন্য কেউ  কোন ছাড় দেয়া হবেনা।

 

অন্যদিকে আরএমপির মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার জামিরুল ইসলাম উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনকে বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযান অব্যবহ রয়েছে। তবে হরিপুর সোনাইকান্দি এলাকার সোহেলের মত মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

 

এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মনজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান – একজন গডফাদার, একজন মাদক ব্যবসায়ী দেশ ও জাতির শত্রু। এক্ষেত্রে কোন পুলিশ সদস্যের সহযোগিতায় মাদক কারবারিরা সাংবাদিকদের গুম, খুন কিংবা অন্য কোন হুমকি দেয় তবে সেই পুলিশ সদস্যকেও আইনের আওতায় আনা হবে। তবে কোন নির্দিষ্ট দূর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্যের দ্বায় পুলিশ বাহিনীর উপর বর্তায় না। কেননা যে সকল পুলিশ সদস্য দূর্নীতিতে জড়াবেন সেই দ্বায়ভার তাকেই নিতে হবে। কেননা কতিপয় অসৎ পুলিশ অফিসারের কারনে সমগ্র পুলিশ বদনাম হোক সেটি আমাদের কাম্য নয়। 

 

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান নেতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং সচেতন নাগরিক সমাজের  (সনাক) সদস্য জামাত খান উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের প্রতিবেদককে জানান মাদক ও মাদক কারবারি নির্মূলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে চুনোপুঁটিসহ গডফাদারদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে সাংবাদিকদের যারা গুম খুনের হুমকি দেয় তারা দেশ ও জাতির শত্রু।তাদের এখুনি আইনের আওতায় আনা উচিত। 

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি,  উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের প্রধান সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক্টিভিস্ট এম.এ. হাবীব জুয়েল বলেন – রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চলের গডফাদার সোহেলের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা কয়েক দফা খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বিভিন্ন হামলা মামলার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে সর্বশেষ গতকাল ২৭ ডিসেম্বরেও বিভিন্ন সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দিয়েছেন এই গডফাদার। তবে শুধু রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপরেও সব দ্বায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে একজন মাদকের গডফাদারকে নির্মূল করা সম্ভব নয়।  বরং স্থানীয় জনতা, সাংবাদিক ও পুলিশের সমন্বয়েই এই সকল  অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

 


উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের সংবাদটি শেয়ার করুন

Discover more from UttorbongoProtidin.Com 24/7 Bengali and English National Newsportal from Bangladesh.

Subscribe to get the latest posts to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *