সাকি-নূরকে সঙ্গে নিয়ে হরতাল ডাক দিলেন ডা. জাফরুল্লাহ

উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের সংবাদটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনঃ- আগামী ২৮ মার্চ অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রর ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। দ্রব্যমূল্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই হরতাল কর্মসূচির আহ্বান করেন তিনি।

শুক্রবার বিকালে ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের বীরউত্তম মেজর হায়দার মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এর ঘোষণা দেন তিনি।

এসময় তার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নূর।

জুনায়েদ সাকি হরতালে সমর্থন দেয়ার কথা জানালেও নূর দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমর্থনের বিষয় জানাবেন।

অবশ্য এরআগে সকালে গণতান্ত্রিক বাম জোটও একইদিন আধা বেলা হরতালের ঘোষণা করে। জোটের শরিক হিসেবে জুনায়েদ সাকিও ওই মঞ্চে ছিলেন। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতায় আনতে হবে। ভর্তুকি মূল্যে দরিদ্র ২ কোটি পরিবারকে নিয়মিত রেশন দিতে হবে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ব্যবসায়ীক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থান নিতে হবে। এই তিন দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সরকাকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য, জনগণের কথা সরকারের কানে প্রবেশের জন্য আগামী ২৮ মার্চ সকল রাজনৈতিক দলের, সকল মানুষের উচিত শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালান করা।

সব শ্রমজীবী মানুষতে হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনার ২৮ তারিখ বাসার বাইরে বের হবেন না। বের হলেও হরতালে যোগ দেয়ার জন্য বের হবেন। সবাই মিলে দল মত নির্বিশেষে যে যেভাবে পারেন ২৮ মার্চ এই হারতালের পালন করেন।

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, দেশ কঠিন সময় অতিক্রম করছে। এটা ১৯৭৪ সালের পূর্বাভাস। ১৯৭৪ সালে অনাহারে ৩ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল। কয়েক মাস আগেও আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয় উদ্বৃত্ত ছিল ৪৭ বিলিয়ন ডলার। এখন সেটা ৪৩ বিলিয়ন ডলারে চলে আসছে। এই চার বিলিয়ন কোথায় গেল? এই চার বিলিয়ন ডলার দিয়ে তো কয়েক বছর সারাদেশে অন্তত দুই-তিন কোটি পরিবারকে রেশন দেয়া যেত।

রণাঙ্গনের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আমাদের আধা বেলারর জন্য রাস্তায় নামা দরকার। আপনাদের কষ্ট হবে তারপরও অনুরোধ করছি আধা বেলা কষ্ট করেন। সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীকে বললো, অতীতের মত হরতালের সময় নিজেরা গাড়ি ভেঙে আমাদের উপর চাপাবেন না। এই হারতালে প্রধানমন্ত্রীকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হতালের সমর্থন জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকারের সমস্ত উন্নয়ন ধ্বংসে পড়েছে যখন জনগণ টিসিবির গাড়ির পিছে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নূর বলেন, আমরা বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যেই আছি। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্যারের অতীতের সকল যৌক্তিক কর্মসূচীতে আমরা তার পাশে ছিলাম, এখনো আছি। তবে হরতাল যেহেতু একটি বড় রাজনৈতিক কর্মসূচী সেহেতু আমরা দলের মিটিংয়ে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবো।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, দ্রব্যমূল্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ১৮ মার্চ বুখা মিছিল করব।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, গণস্বাস্থ্যের মিডিয়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ।


উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের সংবাদটি শেয়ার করুন

Discover more from UttorbongoProtidin.Com 24/7 Bengali and English National Newsportal from Bangladesh.

Subscribe to get the latest posts to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *