dncrp_rajshahi_gov_bd
রাজশাহী ভোক্তা অধিদপ্তরের কাজ ২ খাই আর শুই - ১ম পর্ব

রাজশাহী ভোক্তা অধিদপ্তরের কাজ ২ খাই আর শুই – ১ম পর্ব

Rajshahi_Pet_Care
উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের সংবাদটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরবঙ্গ প্রতিদিন :: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান জানিয়েছেন , ১৭টি জেলায় অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা নেই। এরপরও সারাদেশে প্রতিদিন অধিদপ্তরের ৪০ থেকে ৫০টি টিম দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ সংশোধনের কাজ চলমান।

 

 

 

তিনি আরোও জানান ভোক্তা অধিকার আইনে কিছুটা দুর্বলতার পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে জনবল সংকট রয়েছে। আশা করছি দ্রুত আমরা এ সমস্যা কাটিয়ে উঠব।

 

 

কিন্তু রাজশাহীতে ভোক্তা অধিকারের কর্মকান্ড নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীরা। ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা রাজশাহীর বিভিন্ন প্রান্তের বাজারগুলোতে নিয়মিত অভিযানের সংখ্যা অকল্পনীয়ভাবে কমিয়ে দিয়েছে। বিধায় ভোক্তাদের ভোগান্তি বেড়েই চলছে। 

 

 

রাজশাহী মহানগরীতে অভিযোগের মধ্যে আছে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য ও ওষুধ বিক্রি করা ও বিভিন্ন সেবা দেওয়া, ভেজাল ও নকল পণ্য, ওষুধ ও খাদ্য বিক্রি করা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার বিক্রি, ওজন সংক্রান্ত কারসাজি ও খুচরা মূল্য গোপন রাখা ইত্যাদি। 

 

 

গনমাধ্যম কর্মীদের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজশাহী মহানগরীর শিরইল এলাকার বাসিন্দা প্রফেসর নজরুল ইসলাম জানান – ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দেয়ার বিষয়ে  রাজশাহী ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মাসুম আলীকে ফোন দিয়েছিলাম কয়েক বার কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননা। সর্বপ্রথম সহকারী পরিচালক মাসুম আলীকে সেপ্টেম্বর মাসে ফোন দিয়েছি ২ বার এরপরে ডিসেম্বর মাসে ফোন দিয়েছি ১ বার এবং পরিশেষে জানুয়ারী মাসে ফোন দিয়েছি কিন্তু তিনি তো ফোনই রিসিভ করেননা। এমন কর্মকর্তা কিভাবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্বে সেটা আমার বোধগম্য নয়।

 

dncrp_rajshahi_gov_bd
রাজশাহী ভোক্তা অধিদপ্তরের কাজ ২ খাই আর শুই – ১ম পর্ব

 

অন্য আরেক ভুক্তভোগী রাজশাহী আরডিএ মার্কেটের ব্যবসায়ী আবু সাইদ বলেন – ২০২২ ও ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত রাজশাহী ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা সক্রিয় ছিলো কিন্তু গেল মাসগুলোতে তারা অভিযোগের বিষয়ে তেমন কর্নপাত করছেনা। আমার মতে তারা বেতন নেন আর অফিসে ফেসবুক দেখেই সময় পার করেন। তাদের অভিযানের বিষয়েও ফেসবুকে কোন আপডেট নেই।তাই অভিযোগ করাই ছেড়ে দিয়েছি। তারা খান আর ঘুমান।

 

 

গবেষনা প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট ফর কনসিউমার ওয়েলফেয়ারের কর্মী রাজিয়া আকতার বলেন – আমি সরেজমিন রাজশাহী রাজশাহী ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মাসুম আলীর সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করেছি কিন্তু তিনি অফিসে থেকেও সাক্ষাৎ দেননি।এটা স্পস্ট তিনি অভিযোগ নিতে রাজী নন। এছাড়াও রাজশাহী মহানগরীর বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট, বেসরকারি ক্লিনিক ও ভুয়া প্রতিষ্ঠান থাকলেও এগুলোতে অজানা কারনে অভিযান হয়না। 

 

 

এদিকে সার্বিক বিষয়ে সত্যতা যাঁচাইয়ের জন্য রাজশাহী ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মাসুম আলীর +8801318396961 নাম্বারে কয়েকজন গনমাধ্যম কর্মী বারংবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মেসেজ পাঠালেও তিনি কোন রিপ্লাই দেননি। উল্লেখ্য যে, সহকারী পরিচালক মাসুম আলীর +8801318396961 নাম্বারে কল দেয়া ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেয়ার স্ক্রীনশট সংরক্ষিত আছে। এছাড়াও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রাজশাহী জেলার ওয়েবসাইটে আপডেটেড সংবাদ ২০১৯ সাল পর্যন্ত রয়েছে। এর অর্থ যিনি এই অফিসের যিনি কম্পিউটার অপারেটর বা সাঁট মুদ্রাক্ষরিক রয়েছেন তিনিও দ্বায়িত্ববান নন। বিশ্বাস না এই লিংকে ঘুরে আসুন

 – https://dncrp.rajshahi.gov.bd/bn/site/page/VSD9-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1

 

এছাড়াও সরেজমিন অনুসন্ধানে আরোও জানা যায়,  অনেকেই রাজশাহী ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে বিভিন্ন ভেজাল কোম্পানি কিংবা খাবারের ভেজাল দেয়ার অভিযোগ করলেও তা নিস্পত্তির বদলে হিমাগারে আছে। নাম কা ওয়াস্তে কিছু অভিযান করা হয় যা নিতান্তই লোক দেখানো বলে অভিহিত করেছেন ভুক্তভোগীরা।  ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সাংবাদিকরা তাদের জিজ্ঞাসা করুক তারা সরেজমিন অভিযোগের কয়টি বিষয় তদন্ত করেছেন এবং কয়টি নিস্পত্তি করেছেন। 

 

 

অতএব, উপরে উল্লেখিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সহজেই অনুমেয় যে, রাজশাহী ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মাসুম আলী কতটুকু দ্বায়িত্ববান ব্যাক্তি কিংবা কতটুকু দ্বায়িত্বের সাথে তিনি রাজশাহী ভোক্তা অধিকারের অধিদপ্তরের  এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত আছেন সেটিই এখন জনমনে বড় প্রশ্ন।

 

 

সার্বিক বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ.এইচ.এম সফিকুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের এই প্রতিবেদককে জানান – রাজশাহী ভোক্তা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো প্রমানিত হলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 


উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের সংবাদটি শেয়ার করুন

Discover more from UttorbongoProtidin.Com 24/7 Bengali and English National Newsportal from Bangladesh.

Subscribe to get the latest posts to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *